বিজনেস বেসিক Chitchat

কি বিজনেস করা যায় ?

জ্বী এটা একটা কমন প্রশ্ন , যারা নিজের একটা ব্যবসা শুরু করবেন বলে মনস্থিr করেন, বা বিজনেস জগতে যারা নতুন, তাদের। প্রশ্নটা খুবই লজিক্যাল এবং নিরীহ। কিন্তু এই প্রশ্নের আগে, আরো একটি প্রশ্ন যেটা সাধারণত আমরা যারা নতুন বিজনেস করতে চাই, তাদের মনে আসে না। প্রশ্নটা হলঃ

বিজনেস কি ?

হয়ত হাসছেন, হাহ ! ভাবছেন, এটা আবার কি প্রশ্ন ? বিজনেস তো বিজনেসই, মানে ব্যবসা। আর সবাই করছে না ? এটা তো মংগল গ্রহ থেকে আসা কিছু নয় যে, নতুন করে এই প্রশ্ন করতে হবে বা এর উত্তর চিন্তা করে দিতে হবে।

আছে, চিন্তা করার আছে। আর এই জন্যই এই প্রশ্নটা করা। আমরা যারা বিজনেসে নামতে চাই, তারা আসলে বিজনেসটাকে যেভাবে  ভাবি তা হল, “আমার নিজের এক বা একাধিক প্রোডাক্ট বা সার্ভিস থাকবে, আমি  সেই প্রোডাক্ট বা সার্ভিস আমার কাস্টমারের কাছে  সেল করব”। হুম, মোটামুটি স্ঠিক উত্তর।

আচ্ছা, এবার চলুন নিজেকে আরেকটি  প্রশ্ন করি,

বিজনেস কেন করতে চান ?

এবার এটাই হল পয়েন্ট । কেন বিজনেস করতে চাই ? এক্ষেত্রে বিজনেস করতে চাওয়া অনেক বড় একটা অংশের উত্তর হবে খুবই কমন,

“ভাই, জব ভাল্লাগে না। জবে  কোনো বরকত আছে ? আছে খালি একঘেয়েমী । জবের এই স্বল্প জীবিকায়  কি জীবন চলে ? বিজনেস হল বরকত, এখানে একবার দাঁড়াতে পারলে আর লেগে থাকতে পারলে লাভ একসময় আসবেই ইন শা আল্লাহ”।

মোটামুটি উত্তরটা এরকমই  হবে অনেকেরই। যারা এভাবে চিন্তা করছেন, তারা মূলত বিজনেস করতে চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে অনেক বড় একটা ভুল নিজের অজান্তে expose করে ফেলেছেন, আর তা হল

“জবকে বিজনেসের থেকে আলাদা করে দেখা”

ভাবছেন জব তো বিজনেসের থেকে আলাদাই। না। যদি তা ভেবে থাকেন, তার মানে হল, আগের প্রশ্নটার (বিজনেস কি ?) উত্তরও আপনার পরিপূর্ণভাবে জানা নেই।

কেন ? কারণ হল, বাস্তবে জব বিজনেসের চেয়ে আলাদা নয়, বরং

“জব হল এক প্রকারের বিজনেস”

ভাবছেন কিভাবে ? দেখুন, বিজনেস হচ্ছে, আপনি আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস আপনার কাস্টমারের কাছে সেল করবেন। জবের ক্ষেত্রে আপনার শ্রমই  হল আপনার সার্ভিস, যা আপনি  দিচ্ছেন আপনার কোম্পানীকে, যেখানে আপনি জব করছেন। এখানে আপনার কোম্পানী হল আপনার কাস্টমার। সুতরাং, জবকে ব্যবসার থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। আপনি যদি এতদিন জব করে থাকেন, তাহলে অলরেডী আপনি বিজনেস করেই আসছেন। J

আচ্ছা, এবার তাহলে নিজেকে আরেকটি প্রশ্ন করা যাক , এতদিন ধরে যেই বিজনেস (জব) করে আসছিলাম তাতেই একঘেয়েমী  এসে গেসে, তাহলে এখন যেই বিজনেস করতে চাচ্ছি, তাতেও যে ভবিষ্যতে একঘেয়েমী আসবে না, তার নিশ্চয়তা কি ? আমি কি আসলেই আমার কাজে determined ? যদি determined হই, তবে আমার এতদিনের করা কাজে একঘেয়েমী কেন আসল ?

একটা কাজ করতে আপনি আসলেই কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, কতটা আনন্দ পান, ঐ কাজ করায় আপনার প্যাশন কতটা তার উপরই নির্ভর করে, ঐ কাজটা আপনার মধ্যে একঘেয়েমী সৃষ্টি করবে নাকি করবে না। ছাত্রাবস্থায় সব  ছাত্রেরই দেখবেন লেখাপড়া করতে ভাল্লাগে না, ২/১ ঘন্টা পড়লেই তার মধ্যে একঘেয়েমী চলে আসে, কিন্তু তাকে যদি খেলতে দেন পিসিতে, মোবাইলে , বা বাইরে মাঠে। দেখবেন, সে সারাদিন খেললেও একঘেয়েমীর অভিযোগ করবে  না। এর কারণও সেই একই। পড়ালেখা সবার কাছে  ঐ বয়সে বিষের মত লাগে, কিন্তু খেলাধুলা ! আহ, মধু ।

বিজনেস বা ব্যবসার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আপনি ব্যবসায় বরকত আছে, এটা ভেবেই ব্যবসা করতে চাচ্ছেন, কিন্তু আসলেই কি ব্যবসা করার জন্য passionate কিনা, তা আপনার নিজেকেই নিজে জিজ্ঞেস করতে হবে, ভাবতে হবে সময় নিয়ে। যদি ব্যবসা করতে চাওয়ার কারণটা এমন হয় যে, আপনার জব করতে ভাল্লাগে না, একঘেয়েমী চলে এসেছে জবে, ব্যবসায় অনেক লাভ – তাহলে বোধ করি, নিজেকে আরেকটু সময় দেয়া উচিত হবে। কারণ, আগের ব্যবসা যেটা আপনি করতেন (জব) , তাতে যেমন একঘেয়েমী আপনাকে পেয়ে বসেছিল, হতে পারে, ফিউচার ব্যবসাও আপনার একঘেয়েমীর কারণ হতে পারে। তাই নিজেকে সময় দিন, মানসিক প্রস্তুতি নিন আরো সময় নিয়ে।

কিন্তু যদি উত্তর এমন হয় যে, যেই context বা পরিসরে আপনি কাজ করছিলেন, সেই context বা পরিসরে কাজ করাটা আপনি উপভোগ করতে পারছেন না, আপনার নিজেরই পছন্দের context/পরিসর আছে, এবং তাতে আপনি যথেষ্ট অভিজ্ঞ , এবং একঘেয়েমীর জন্য নয়, বরং  আপনি আপনার সেই পছন্দের পরিসর নিয়ে কাজ করার জন্য ব্যবসার করতে চান তবে আপনাকে অভিনন্দন।

এখন ভাবতে পারেন, আপনার পছন্দের পরিসর কোনটা, কিসে এবং কি নিয়ে কাজ করতে আপনি পছন্দ করেন ?  That is the question ! J

Mithu A Quayium
CEO & Founder
CyberCraft

(We are a software company in Bangladesh working as distributed one to provide softwares, ecommerce, management systems, websites as solutions around the world)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × three =